Skip to main content

Posts

রমজানের নূরানী সৌন্দর্য

  বারো মাসের মধ্যে আমার প্রিয় মাস রমজান। সারা বছর যা-ই করি না কেন, এই এক মাস আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকার এক অপার সুযোগ এনে দেয়। এগারো মাস কাজ করি, আয়-উপার্জনে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু এই মাসে মনকে একটু বেশি আল্লাহর পথে নিবিষ্ট করি। রমজান মাসে কাজের ব্যস্ততা কমিয়ে দিই, যেন ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারি। এই মাসের আবহাওয়া অন্যরকম—একটি নূরানী অনুভূতি জাগ্রত হয় চারপাশে। প্রকৃতির দিকে তাকালেই মনে হয়, যেন চারদিক রমজানের আলোয় ঝলমল করছে। সকাল নয়-দশটার দিকে ঘুম থেকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করি, তারপর কুরআন তেলাওয়াত করে মনকে প্রশান্ত করি। মিসওয়াক করা, পাঞ্জাবি পরা, এবং যোহরের নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—এই কাজগুলো যেন আত্মার প্রশান্তির কারণ হয়ে ওঠে। রমজানে মসজিদগুলোর ভিড় বেড়ে যায়, রাস্তা দিয়ে চলতে গেলেই অসংখ্য মুসল্লিদের দেখা মেলে। নামাজের পথে তাদের সঙ্গে আড্ডা মারার মজাই আলাদা। যোহরের নামাজের পর অতিরিক্ত দশ-বিশ রাকাত নফল নামাজ পড়া, তারপর মসজিদের বারান্দায় বসে ইসলামিক আলোচনা করা—এইসবই দিনটাকে আরো অর্থবহ করে তোলে। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে বাজারে যাওয়া, কেনাকাটা করা—রমজানের একটি বিশেষ আন...

ভালোবাসার কোন নির্দিষ্ট দিন হয় না

  যদি তুমি সত্যিকারের হৃদয় দিয়ে কাউকে ভালোবাসো, তাহলে প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন। প্রতিদিনই রোজ ডে, প্রপোজ ডে, হাগ ডে, প্রমিস ডে, চকলেট ডে এবং ভ্যালেন্টাইন ডে। প্রতিটি দিন প্রিয় মানুষের জন্মদিনের মতোই বিশেষ হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট একদিনের জন্য অপেক্ষা না করে, তোমার প্রিয় মানুষ যখন মন খারাপ করবে, তখনই তাকে একটি গোলাপ দাও। দেখবে, তার দুঃখ মুহূর্তেই উড়ে যাবে, এবং সে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করবে। বছরের নির্দিষ্ট দিনে চকলেট না দিয়ে, হঠাৎ করে রাতের বেলা বা কঠিন সময়ে তাকে চকলেট উপহার দাও, দেখবে সে কতটা খুশি হবে এবং বুঝতে পারবে তুমি তাকে সত্যিই কেয়ার করো। একটি নির্দিষ্ট দিনে ভালোবাসার প্রস্তাব না দিয়ে, প্রতিদিনই তাকে "আই লাভ ইউ" বলো। যারা সত্যিকারের ভালোবাসে, তারা জানে প্রিয় মানুষের মুখ থেকে এই কথাটি শোনার অনুভূতি কতটা অসাধারণ। একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রমিস না করে, প্রতিদিন ঘুমানোর আগে প্রতিজ্ঞা করো—এই সম্পর্ক কখনও ভাঙবে না, এটি বিয়ে পর্যন্ত এবং মৃত্যুর পরও থাকবে। একটি নির্দিষ্ট দিনে শুধু হাগ না করে, যখনই তার মন খারাপ হবে বা তোমার মন খারাপ হবে, তখনই তাকে শক্ত করে জড...

বরাক উপত্যকায় সড়ক দুর্ঘটনার মহামারী: আমাদের করণীয়

  বরাক উপত্যকায় সড়ক দুর্ঘটনার মহামারী: আমাদের করণীয়          প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনতে হয় কোনো না কোনো সড়ক দুর্ঘটনার খবর। কখনো একটি পরিবারের সবাই শেষ হয়ে যায়, কখনো পরিবারের একমাত্র সন্তান নিঃশেষ হয়ে যায় রাস্তায়, আবার কখনো নববিবাহিত কেউ অকালে প্রাণ হারায়। দুর্ঘটনার এই মর্মান্তিক খবরগুলো আমাদের জীবনের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। যেন ঘুম থেকে উঠে খবর শুনি, দুঃখ পাই, আবার ঘুমিয়ে পড়ি—এটাই যেন রুটিন হয়ে গেছে! করোনা মহামারী আমাদের জীবনে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হয়ে এসেছিল, কিন্তু বরাক উপত্যকায় সড়ক দুর্ঘটনার হার এখন যেন তার থেকেও বড় এক মহামারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু অনিবার্য, একথা আমরা জানি, কিন্তু অকাল মৃত্যু—এটি যে কতটা বেদনাদায়ক, তা শুধু সেই পরিবারগুলোই জানে, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার আসল কারণ: আমাদেরই দায়িত্বহীনতা আমাদের চারপাশে লক্ষ করলে দেখতে পাবেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশের গাড়ি বা সরকারি বাস খুব কমই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাহলে কেন বেশি দুর্ঘটনা হয় বাইক, অটো, টুকটুকি ও প্রাইভেট গাড়ি...

Inspiring Entrepreneurship in Our Communities

  Whenever there are religious gatherings like waaz mahfils in the neighborhood, you'll often find small children setting up stalls, selling items they’ve made or brought from home. These little ones have big dreams of running a business, believing that their sales will soar during the event and they'll earn some money. Respecting their entrepreneurial spirit, I make it a point to buy something from every stall, even if it’s in small quantities, whenever I attend such gatherings. This act is my way of encouraging their business mindset and supporting their dreams. The food or items they sell are often prepared with great care and cleanliness, with their mothers or sisters putting their hearts into making them. So, I urge everyone attending such gatherings to purchase something from these children, no matter how small. It’s not just about buying food—it’s about nurturing the seeds of entrepreneurship within them. And if your own children ever express interest in setting up such ...

A Memorable Day of Gratitude and Accomplishment

  November 2019 marked the completion of my degree, a milestone that holds a special place in the hearts of many students. For many, the dream of donning this graduation attire remains unfulfilled due to various challenges. But today, I am deeply grateful to Allah for allowing me to live this dream. Wearing this gown fills me with immense pride and happiness. This day will forever remain etched in my memory, not just because of the achievement, but because I got to reunite with my college friends—friends I may never see again in the same way. Many of them have moved on with their lives; some are married, some came with their children, while others brought their spouses or in-laws. It was a bittersweet realization that life had taken us all in different directions. Most boys, unfortunately, could not attend, as many had to sacrifice their dreams for the sake of their families. They shouldered responsibilities early, with some working abroad to support their loved ones. On the other ...

পুরনো দিনের ফোন, পুরনো দিনের স্মৃতি

  সময়টা ২০০৮ থেকে ২০১১—যেন এক আলাদা জগৎ। তখন আমাদের জীবন মোবাইলের মেসেজেই সীমাবদ্ধ ছিল। অনলাইন বলতে শুধু গান ডাউনলোড করা জানতাম, আর কিছুই নয়। সবাই এয়ারসেল সিমে ৩৫ টাকার এসএমএস প্যাক রিচার্জ করে একে অপরকে শায়েরি আর জোকস ফরওয়ার্ড করতাম। প্রতিদিন ১০০টা এসএমএসের সীমা ছিল, কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকাদের ১০০টা মেসেজ সকাল দশটার আগেই শেষ হয়ে যেত। এরপর মেন ব্যালেন্স দিয়ে মেসেজ চালানো হতো। আমিও এই অভিজ্ঞতা থেকে বাদ যাইনি। ২০০৮-০৯ সালে আমাদের ঘরে প্রথম মোবাইল এলো। তখন সেটার মাধ্যমেই মেসেজ করতাম। ২০০৯ সালে আমার প্রথম মোবাইল নোকিয়া ২৭০০ ক্লাসিক কেনা হলো। কী আনন্দই না হয়েছিল সেই দিনগুলোতে! ১০০টা এসএমএস শেষ করে শায়েরি আর জোকস পাঠানোর নেশায় পাগল হয়ে থাকতাম। ২০১১ সাল ছিল একটা মাইলফলক। প্রথম জিমেইল আইডি খুললাম, প্রথম ফেসবুকে পা রাখলাম। সেই সময় টুইটার অ্যাকাউন্টও খুলেছিলাম। মজার ব্যাপার, তখন যে শায়েরি বা জোকসগুলো মেসেজে ফরওয়ার্ড করতাম, সেগুলোই ফেসবুকে পোস্ট করতাম। আজও ফেসবুকের মেমোরিজে ২০১১-১২ সালের সেই পোস্টগুলো দেখি। তবে সেগুলো হাইড করে রেখেছি। কারণ, এখন যদি কেউ সেগুলো দেখে, আমার ইজ্জত নিয়ে মিম বানিয়ে ...

শৈশবের রঙিন স্মৃতি: এক টুকরো স্বর্গ

  শিশুকাল—যেন মাটির সোঁদা গন্ধে ভরা এক স্বপ্নময় সময়। তখন ছিল না মোবাইল, না ছিল ভিডিও গেম বা টিকটকের মতো কিছু। ছিল মাটির তৈরি মানুষ, মাটিতে মেশা খেলা, আর নির্ভেজাল হাসি-খুশি। শৈশবের সেই দিনগুলো যেন একটা ছোট্ট আদিম যুগ, যেখানে আমরা নিজেরাই নিজেদের পৃথিবী বানিয়ে নিতাম। আমরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে রান্নাবাড়া করতাম। কেউ একজন হতো গৃহস্থ, আর অন্যরা আত্মীয় সেজে আসত সেই “বাসায়”। বাসন হতো নারিকেলের মালা, আর সবজি হিসেবে গাছের লতাপাতা। ঘাস ছিল আমাদের প্রধান সবজি। আর রান্নার মসলা? সেটা ছিল ইটের গুঁড়া! ইটের গুঁড়োতে সবজির এমন লাল রং হতো যে, আজকের এমডিএইচ মসলাও তাকে হার মানাবে। যখন একেবারে ছোট ছিলাম, তখন রান্নাটা হতো কাঁচা। একটু বড় হতে শিখে গেলাম আগুন জ্বালানো। মালার নিচে আগুন দিয়ে রান্না করতাম। যদিও রান্নার মূল দায়িত্ব ছিল মেয়েদের। আমাদের কাজ ছিল “সবজি” জোগাড় করা। আমরা ছেলেরা মুরতা পাতা দিয়ে টাকা বানাতাম, আর সেই টাকা দিয়ে “কেনাকাটা” করতাম। ছোটবেলার এই খেলাগুলো ছিল আমাদের জীবনের ছোট্ট উৎসব। আমাদের সময় গ্রামের বাচ্চারা মাটির সঙ্গে মিশে থাকত। তারা দৌড়াত, খেলত, আর কোথাও পড়ে গেলে সহজেই উঠে দাঁড়িয়ে হাসতে ...

ছোটবেলায় নানা বাড়ির আনন্দ

  ছোটবেলায় আমাদের নিজের জমি ছিল না। তাই স্কুল ছুটি হলে ডিসেম্বর মাসে মামাবাড়ি যেতাম। সেসব দিনগুলো যেন এক অন্যরকম স্বপ্ন ছিল। ধান মারার জন্য মাঠে গরু দিয়ে মাড়াই করা হতো। মাঠের মধ্যে “শাতল” বানানো হতো—ছোট ছোট ঘর বানানো, যেখানে দুপুরে লাড্ডু আর মুড়ি বিক্রি করতে লোক আসত। আমরা ধান দিয়ে লাড্ডু আর মুড়ি কিনে খেতাম। সেই স্বাদ আর আনন্দ আজও ভুলতে পারি না। মামাবাড়ির একপাশে ছিল একটা ছোট্ট “বিছরা,” যেখানে নানি সুন্দরভাবে লাইন ধরে নানান রকমের সবজি লাগাতেন। আমরা সবাই মিলে মাটি কোপাতাম, গাছে পানি দিতাম। নানির সঙ্গে কাজ করতে করতেই শিখেছি প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আনন্দ। মাঠের আশেপাশে ছোট ছোট গর্ত ছিল, যেখানে বর্ষায় মাছ ঢুকত। জল শুকিয়ে গেলে মামা সেই মাছ ধরতেন। তখন নানি সেই টাটকা মাছ দিয়ে বিছরার ফরাসি শাক তুলে রান্না করতেন। পেঁয়াজপাতা আর ধনিয়াপাতার সুগন্ধে সে তরকারি যে কী অসাধারণ ছিল! আজও সেই স্বাদ আর গন্ধ কোথাও পাইনি। বড় মামা ছিলেন কেরাম খেলার শৌখিন। আমরা যখন তার জন্য মাটির চুলা থেকে বিড়ি জ্বালিয়ে নিয়ে আসতাম, পথে দু-একটা টান না মেরে থাকতে পারতাম না। শীতকালে বড়ই গাছ থেকে বড়ই পেরে সবাই ম...

এই কাজ আমার কাছে শুধু শখ নয়, এটা আমার আত্মার শান্তি

  ছোটবেলায় যখন প্রশান্ত স্যারের বাড়িতে টিউশন করতে যেতাম, দেখতাম স্যার ব্যস্ততার মাঝেও কী সুন্দরভাবে সময় বের করে উনার ঘরের পাশে বাগানে নানা ধরনের সবজি লাগাতেন। স্যারের সেই সবজির বাগান দেখে মনে হতো, প্রকৃতির সান্নিধ্যে এ যেন এক অন্যরকম শান্তি। স্যারকে সবুজের মাঝে কাজ করতে দেখে, আমার মনেও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলো। সেই সময় থেকেই প্রকৃতির প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করতাম। তবে পড়াশোনার চাপে তখন নিজের জন্য সময় বের করা সম্ভব ছিল না। এরপর যখন মামাবাড়ি যেতাম, দেখতাম নানি কী যত্ন করে ঘরের পাশের একটুকরো জমিতে ছোট্ট সবজি বাগান বানিয়েছেন। আমরা নানিকে সাহায্য করতাম, মাটি কোপানো থেকে শুরু করে বীজ বোনা পর্যন্ত সব কিছুতে। সেই সময় নানির সঙ্গ পেতে আর মাটির গন্ধে মাখামাখি হতে কী যে ভালো লাগতো, বলে বোঝাতে পারবো না। সেই ছোট্ট ছোট্ট কাজগুলোর মধ্যেই যেন এক অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পেতাম। তখন থেকেই মনে স্বপ্ন জাগলো—একদিন আমিও আমার নিজের ছোট্ট জমিতে সবজি চাষ করব। ২০১৯ সালে ডিগ্রি কমপ্লিট করার পর হাতে অনেকটা সময় পেলাম। সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ এল। জমি কিনলাম, আর শুরু করলাম আমার নিজ...

নিজ রাজ্য ছাড়া অন্য রাজ্যে খাবার পছন্দ না

  ভাইরে ভাই, দুঃখের কথা কোথা থেকে শুরু করি? নিজের গ্রাম, নিজের রাজ্যের সবুজ শ্যামল পরিবেশ ছেড়ে অন্য রাজ্যে পা রাখলে যেন মন আর ভালো থাকে না। মনে হয়, জীবনের সব রঙ ফিকে হয়ে গেছে। গুজরাটে এসে তো একেবারে হতবাক। চারপাশে কেবল ইট-পাথরের নগর, না আছে সবুজ, না আছে খোলামেলা পরিবেশ। প্রকৃতির শীতল ছোঁয়া যেন এখানে পৌঁছায়ই না। আর খাবারের কথা যদি বলি, সেখানে তো যেন নতুন করে এক দুঃখের শুরু। প্রতিটা খাবারে মিষ্টি—চাখতে গেলেই মনটা কেমন জানি কেঁপে ওঠে। আমি তো মিষ্টি একেবারেই পছন্দ করি না, শুধু চায়ে সামান্য মিষ্টি ছাড়া। ক্ষুধার জ্বালায় রাগ করে মরিচ কিনেছিলাম, কিন্তু সেই মরিচটাও যে মিষ্টি হবে, এটা তো ভাবতেই পারিনি। মনে হচ্ছিল, গুজরাটের প্রতিটা মানুষ একটু মোটা কেন, তার কারণ বুঝতে আর বাকি নেই—তারা তো সারাদিন মিষ্টি খায়! আমাদের বাঙালিদের জিহ্বা স্পাইসি খাবার ছাড়া তৃপ্তি পায় না। কিন্তু আমার এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় বুঝেছি, দিল্লি, মুম্বাই, পশ্চিমবঙ্গ আর আসাম ছাড়া আর কোথাও আমাদের রুচির খাবার নেই। রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট বা তামিলনাড়ু—সব জায়গাতেই খাবারে মিষ্টি যোগ করা বাধ্যতামূলক যেন। আর...

ছোটবেলা যেভাবে শবে বরাত পালন করতাম

  ছোটবেলায় শবে বরাত এলেই আমার দাদি বলতেন, "সিন্নি করতে হবে," আর নানা ধরনের শিন্নি করতেন। কখনো খিচুড়ি রান্না করে সবাইকে শেয়ার করতেন, কখনো "আল্লাহর রহম শিন্নি" বানিয়ে প্রতিবেশীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন। সেই দিনগুলো ছিল অন্য রকম। বাড়ির বড়রা আমাদের ছোটদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদে যেতেন। তখন মসজিদে কারেন্ট ছিল না। শবে বরাতের রাতকে বলা হতো "বাতির রাত"। সবাই মসজিদে মোমবাতি আর আগরবাতি নিয়ে যেতেন। পুরো মসজিদের বাউন্ডারিতে মোমবাতি সাজিয়ে রাখা হতো। রাতের সেই আলোয় মসজিদ দেখতাম, যেন কোনো বিশেষ দিনে মন্দির সাজানো হয়েছে। শবে বরাতের আগে ঘরে ঘরে শিন্নি বানানো হতো। শবে বরাতের রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদে বড় আয়োজন হতো। প্রত্যেক পরিবার থেকে শিন্নি আনা হতো এবং তা সবার মধ্যে ভাগ করা হতো। সেদিন মসজিদের পরিবেশটা ছিল একেবারে ভিন্ন। মহিলারা, আমাদের মা-দাদিরা, আশেপাশের চাচি-বোনেরা সারা রাত জেগে নামাজ পড়তেন। তারা বিশেষভাবে ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়তেন, যাকে বলা হতো "লাইলাতুল বরাতের নামাজ"। আরেকটি বিশেষ বিষয় ছিল, শবে বরাতের রাতে ঘরে ঘরে মাংস রান্না হতো। যে ঘরে মাংস না থাকত...

আমাদের পুরনো মসজিদ আবেগে ভরা

  গত শুক্রবার ছিল আমাদের প্রাণপ্রিয় মসজিদে শেষ জুমার নামাজ। নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই মসজিদ ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়। এটি শুধু একটি মসজিদ নয়; এটি আমাদের বাপ-দাদাদের আবেগ, স্মৃতি এবং আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছোটবেলা থেকে এখানেই আমি নামাজ পড়েছি, হাজারো নফল, ফরজ এবং সুন্নত ইবাদত করেছি। রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত, শবে বরাত, শবে কদরের রাত, সবকিছুই যেন এই মসজিদের চার দেওয়ালের মধ্যেই বন্দি ছিল। আমার মনে পড়ে, শবে বরাতের রাতে যখন মসজিদের দেওয়ালে মোমবাতি জ্বালিয়ে সাজানো হতো। সময়ের সঙ্গে সেই মোমবাতি জায়গা নিয়েছে আধুনিক আলো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি। কিন্তু আমাদের মসজিদ সব সময় সেই একই অনুভূতি, একই আবেগের জায়গা হয়ে ছিল। রসুলপুর গ্রামের এই মসজিদ ছিল আমাদের ইবাদত এবং ঐক্যের প্রতীক। তবে, সময়ের পরিবর্তনে উন্নত মসজিদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে পুরনো মসজিদটি ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। গ্রামবাসীরা নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য একত্রিত হয়েছে। কেউ আর্থিকভাবে সাহায্য করছে, কেউ নিজ হাতে কাজ করে শ্রম দান করছে। মুরব্বি থেকে শুরু করে যুবক পর্যন্ত...

প্রযুক্তির কৃত্রিমতায় নয়, প্রকৃতির কোলে, সরলতায় ঘেরা একটি শান্তির পৃথিবীতে

  এই আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবী আমাকে তেমন আকর্ষণ করে না। মানুষ দিন দিন আরও উন্নত হতে চায়, নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। আজকের পৃথিবী দূষিত, করাপ্টেড, বঞ্চিত ও অসহায়। নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর—সবকিছু হারিয়েছে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। গ্রামগুলো শহরের মতো ব্যস্ত আর কৃত্রিম হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তির উন্নতির পিছনে প্রকৃতি এবং পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি বরাবরই অতীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করি—সেই সময় যখন পৃথিবী ছিল শান্ত, প্রকৃতি ছিল তার আপন রূপে। আমি পছন্দ করি না শহরের কোলাহল, গাড়ির শব্দ, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের আওয়াজ, কিংবা ধোঁয়ায় ভরা বাতাস। শহরের অট্টালিকা, ড্রেন, প্লাস্টিকের আবর্জনা, এবং আধুনিক যান্ত্রিকতা আমার শ্বাস রুদ্ধ করে দেয়। আমার শান্তি এবং তৃপ্তি আমি খুঁজে পাই প্রকৃতির মাঝে—গ্রামের নদীর পাড়ে, বড় কোনো গাছের ছায়ায়, পাহাড় কিংবা সাগরের পাড়ে। আমি এমন এক জীবন কল্পনা করি যেখানে প্রযুক্তি নেই। থাকবে শুধু প্রকৃতি, সরলতা, আর কয়েকজন আপনজন। আমি এমন একটি জায়গায় থাকতে চাই যেখানে থাকবে বড় বড় পাহাড়, ঘন বন, সাগরের নীল জ...

মানুষের অহংকার জীবনে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে

মানুষের অহংকার জীবনে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু উদাহরণ: 1. সম্পর্ক নষ্ট করা: অহংকার একজন ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এটি বন্ধুত্ব, পরিবার, এবং পেশাগত সম্পর্কের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। 2. শিখতে অক্ষমতা: অহংকারী ব্যক্তি প্রায়ই মনে করেন তারা সব জানেন। এটি তাদের নতুন কিছু শিখতে বা অন্যদের থেকে পরামর্শ নিতে বাধা দেয়। 3. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: অহংকার মানুষকে একাকী করে তোলে, কারণ কেউ অহংকারী ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না। 4. সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল: অহংকারী ব্যক্তি প্রায়ই নিজেদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেন, যা ভুল সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করতে পারে। 5. আধ্যাত্মিক ক্ষতি: অহংকার একজনকে বিনম্রতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা মানসিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 6. ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষতি: অহংকার কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি টিমওয়ার্ক এবং সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অহংকার নিয়ন্ত্রণে রেখে বিনম্র হওয়া জীবনের উন্নতি ও সম্পর্কের মজবুতি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

Koysar's story is one of resilience

  Once upon a time, there was a boy named Koysar, born on June 6, 1997, a Friday. From the very beginning, his life was filled with challenges. He was born with a disability, his bones bent in a way that made many believe he could never walk, swim, or even eat independently. But Koysar had a spirit that no one could break. His parents, especially his mother, went through immense struggles. They would rush him between hospitals and home, but their love for him never wavered. While others doubted his abilities, Koysar quietly proved them wrong. He learned to do everything on his own: eating with his hands, bathing by himself, and even excelling in his studies. He swam, played, and prayed, all while following his own unique way due to his disability. Though many looked down on him and misunderstood his struggles, Koysar never let the negativity affect him. He believed that Allah had a plan for him, and no matter how hard life got, he would keep moving forward. He grew up to study at a...

You’re not just alive; you’re a fighter

  Science tells us that during a single act of intimacy, a healthy adult male releases around 400 million sperm cells. Logically, if all those sperm could find space in the womb, it would result in 400 million babies. But here’s the truth: only 300–500 sperm cells survive the race to the mother’s egg. Out of those few, only one victorious sperm fertilizes the egg to create life—that victorious sperm is you. Have you ever considered this incredible battle? When you raced towards life, you had no eyes, no hands, no legs, yet you emerged victorious. When you raced, you had no certificates, no brain, yet you succeeded. When you raced, you had no education, no one to help you, yet you won. Why? Because you had a clear destination, a focused purpose, and unwavering determination to reach the egg. And against impossible odds, you made it—you are the result of that unparalleled victory! Now think about this: Many embryos don’t survive in the womb, but you did. Many babies don’t make it thr...

Waz Mahfil: Golden Memories of Childhood

  The feeling of Waz Mahfils (Islamic sermons) is no longer the same as it was in childhood. Back then, when a Waz was organized at our village mosque, it felt like a grand festival for children. Preparations would start 15-20 days in advance, with rehearsals taking priority over mosque lessons. No child missed these rehearsals, which included practicing funeral prayers (Janaza), Eid prayers, reciting Ghazals, Qiraat, and various dialogues. Two days before the Waz, everyone would get busy preparing the stage and decorating the mosque. Everyone, leaving aside their usual work and even meals, would focus entirely on making the venue look beautiful. On the day of the Waz, we would wake up early, bathe, and wear new clothes, just like on Eid. The event was filled with competitions—Ghazals, Qiraat, and other performances—and there would be small stalls outside the venue, which felt like five-star hotels to us back then. For children, the idea of a five-star hotel didn’t exist, so we’d b...

My Village, My Heaven

 I live in a village that feels like a little piece of heaven on earth. From here, I can witness the breathtaking beauty of nature in all its forms—majestic hills, flowing rivers, serene ponds, lush greenery, and vibrant fields. Even a national highway runs beside our village, connecting us to the world while keeping our peaceful essence intact. From my village, I can see the towering mountains of Meghalaya, their peaks often kissing the clouds. Across the border, another country, Bangladesh, is visible, and so is the neighboring district of Cachar. A bridge connects our village with another settlement, and just beyond that lies the international border. A long canal stretches from the river to the wetland, adding to the charm. Right in front of my home is a large wetland, crossed by a small sluice gate. Beside the village, the national highway hums with life, while the open fields in front of my house are a hub of activity—children playing, vegetables being cultivated, and a vibra...

আমার পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছে, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে বাকি জীবনটা জিন্দা লাশ হয়ে বাঁচবো আলবিদা

  যখন খুব বেশি প্রবলেম হচ্ছে, আমার একটা কথার দাম দিচ্ছে না, পৃথিবীতে সকল প্রবলেম আমাকে একসাথে দেখা দিয়েছে, তার উপর সে বাল পাকনামি করছে আমার সাথে, একটা কথার দাম দিচ্ছে না তখন আর সহ্য না করতে পেরে গত দেড় মাস থেকে আমার মুখে গালি চলে এসেছে, ওকে বারবার গালি দিতাম। সে বারবার অন্যায় করত আমাকে রাগ উঠানোর জন্য আর আমার রাগ উঠার পর কন্ট্রোল করতে না পেরে বারবার গালি দিতাম তখন সে বলত গালি দেওয়ার না জন্য,  আমার বারবার গালি দেওয়ার ইচ্ছা হতো কারণ সে কাজ এমন‌ই করত। সে হয়তো ছেড়ে দিতে চেয়েছে কিন্তু কোনো রিজন পায়নি আর হঠাৎ একদিন এই গালি দেওয়া টা রিজন হিসেবে মেনে নিল আর সে চলে যাওয়ার কথা বলল, আমি নিজে থেকেই বললাম হা ছেড়ে দাও কোনো অসুবিধে নেই যেখানে রেস্পেক্ট নেই সেখান থেকে কোন দরকার নেই। কিন্তু এর আগে বারবার এভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে নিজে থেকেই চলে আসত 2 ,1 দিন পর নইলে আমি নিজে থেকে চলে যেতাম। কিন্তু এইবার আমি পরিবারের কিছু প্রবলেমে ছিলাম সেজন্য পরিবারের প্রবলেম গুলো, আর নানান কস্ট ফেইস করতে গিয়ে আমি নিজে থেকে যাইনি অনেক বেশি কষ্ট হয়ে গিয়েছিল,  তার উপর রাগ বেশি হয়েছিল তাই ...

রিলেশনশিপ অর্থাৎ ভালোবাসা নিয়ে আমার হৃদয়ের কিছু কথা

  যখন আমাদের জীবনে ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো টেনশন থাকে না যখন আমাদের পরিবারে আমাদের মাথার উপর গার্জেন থাকেন উপার্জনের রাস্তা থাকে আর আমাদেরকে দেওয়া হয় পড়াশোনা করার জন্য অথবা এমনিতেই যাহারা ঘোরাফেরা করে তারাই সবচেয়ে বেশি এই ভালোবাসা নিয়ে চিন্তায় থাকে। বর্তমান সমাজ অনুযায়ী আমরা সর্বদাই একটাই ধারণা নিয়ে চলাফেরা করি যে কোথায় কোন মেয়েকে সুন্দর লাগছে অথবা কোথায় কোন মেয়ে লাইন দেবে। যখন কাউকে হৃদয় থেকে একটু বেশি ভাল লেগে যায় অর্থাৎ সেটা ভালোবাসা নাও হতে পারে খুব বেশি অ্যাট্রাকশন এর কারনেও কারোর জন্য আমরা পাগল হয়ে যাই এবং এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আমরা জীবন দিতে বাধ্য হয়ে যাই। পাগলের মত খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে পেছনে পেছনে ঘুরেফিরে আর শুধু বলতে থাকি যে সে কখন ভালোবাসা গ্রহণ করবে। তখন পুরো পৃথিবীর উপর নফরত এসে যায় আর ওই মানুষটাকে শুধু ভাললাগে যদি সেই সময় পরিবারের কোনো মানুষ ওই মানুষটার বিরুদ্ধে কথা বলে তাহলে সেই পরিবারের কেউ ঘৃণা করতে দ্বিধাবোধ করিনা। যে মানুষ একটা পশু হত্যা করতে ভয় পায় সেই মানুষ যদি তার প্রেমিকার সাথে অন্য কোন ছেলে প্রেম করতে চায় তাহলে সে...